Thursday, September 6, 2012

স্বপ্ন, চিরকালই গ্রিন গ্রিন, এভারগ্রিন ......


স্বপ্ন …  ()

রোববারের দুপুরের ঘুম টা বেশ ভালই দিলাম, কিন্তু আজ একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম... স্বপ্নে দেখলাম চারজন শালওলা ( মানে যারা ওই কাশ্মীর থেকে আসে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে শাল, সোয়েটার বিক্রি করে, তারা ) হাতির পিঠে চেপে আমাদের বাড়ি শাল বিক্রি করতে এসেছে | ওরা চারটে হাতির পিঠে বসে আছে আর সঙ্গে করে আরো একটা হাতি নিয়ে এসেছে | মা দুটো ফুলহাতা সোয়েটার কিনলো, একটা আমার জন্য, একটা দাদার জন্য | কিন্তু এই প্রচন্ড গরমে মা সোয়েটার কেন কিনলো বুঝতে পারলাম না, অবশ্য স্বপ্নে সোয়েটার কেনা যায় | যাইহোক আসল কথায় আসি, স্বপ্নে দেখলাম ওই চারজনের মধ্যে একজন কাচুমাচু মুখ করে মাকে বলল "মাসিমা আপনি একঠো হাতি খরিদকে লেন", মা তো অবাক, বলল সেকি আমি ছাপোষা মানুষ, হাতি কিনব কি? কিন্তু সেই শালওলা কোনমতেই কথা শোনে না, অবশেষে মা দুটো পুরনো শাড়ির বিনিময়ে একটা হাতি কিনেই ফেললহাতি টাকে বাড়ির সামনের লাইট পোস্টে বেঁধে সেই শালওলারা চলে গেল | কিন্তু সমস্যা হলো বাড়িতে, মা বলল হাতিটাকে সিড়ির তলায় ফাকা জায়গায় রাখবে, আবার দাদা বলল না ওটাকে ছাদে রাখা হোক | সেই নিয়ে বাড়িতে তখন হুলুস্থুল কান্ড | কিন্তু হাতিটার তাতে কোনো হেলদোল নেই সে লাইট পোস্টের সামনে দিব্যি বসে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল আর কান নাড়ছিল, আমি একটা বিস্কুট দিতেই সে শুঁড় দিয়ে আমার হাত টা জড়িয়ে ধরল, এমন সময় ঝুপ করে আমার স্বপ্ন টা ভেঙ্গে গেল, জানলা দিয়ে দেখলাম "আকাশে কালো মেঘ করেছে..."

স্বপ্নচিরকালই গ্রিন গ্রিনএভারগ্রিন ......  ()

এবারের গরমের ছুটিতে সোজা মামাবাড়িতে দুধভাত খেতে হাজির, ভোরবেলায় দিদিমা তখন আম, জাম, জামরুল, আশফল, নারিকেল ঘেরা উঠান ঝাট দিচ্ছে,  আমিও দিদিমার পিছন পিছন ঘুরু ঘুরু করছি আর আশফল কুড়োচ্ছি | এমন সময় দেখি আশফল গাছের গা ঘেসে ওঠা তেলাকচু পাতার জঙ্গলে একটা ইয়া বড় কাঠবেড়ালি বসে লেজ দোলাচ্ছে, ব্যাস তড়াক করে টেনিদার গল্পের কাঠবেড়ালিটার কথা মনে পড়ে গেলো, ওরকম একটা কাঠবেড়ালি আমারও যে চাই, চুপি চুপি পা টিপে টিপে তেলাকচু পাতার জঙ্গলের দিকে এগিয়ে গিয়ে যেই না লেজ টাকে চেপে ধরলাম, অমনি ঝুপ, ধুম, ধড়াম এক্কেবারে পা হড়কে জঙ্গলের ওপারে, কিছুক্ষণ মাথা ঝিমঝিম আর অন্ধকার তারপর যেই না চোখ খুললাম চারধারে শুধু সবুজ আর সবুজ...

আগে জানতাম তেলাকচু পাতার জঙ্গলের ওপারে মালতি পিসিদের বাড়ি | কিন্তু এতো মালতি পিসির বাড়ি নয় যে এক বিশাল মাঠ, বড় বড় সবুজ ঘাসে ভরা মাঠ তবে মাঠ ময়রাডাঙ্গার মাঠও নয়... তো আফ্রিকার "সেরেংগেটি" ময়দান... লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই বিশাল তৃণভূমিতে হাতি, সিংহ, নেকড়ে, হরিন, জেব্রা, জিরাফ আর সেই হিপ্পোপটেমাসরা বাস করে, আর আমি এখন সেই খানে ভেবেই কিরকম একটা আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম আর সঙ্গে সঙ্গে শুনি দৈববানী এই কে রে তুই?” চামচিকের মতো চমকে আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখি জিরাফদা, হলদে কালো ইউনিফর্মটাকে গায়ে চাপিয়ে আমার দিকে মিটি মিটি চেয়ে হাসছে | আমিও একটু ফিকফিকিয়ে হেসে উঠলাম... বন্ধু হলাম দুজনে আর এগিয়ে চললাম...

তখন দুপুর বেলা, সুর্য মধ্যগগনে, সিংহ মহাশয় কেশর দুলিয়ে জেব্রা বিরিয়ানি দিয়ে লাঞ্চ সারছে... আমার দিকে তাকিয়ে লেজ নেড়ে কুশল বিনিময় করলো, দুরে সিংহের মামা নরহরি দাস তিড়িং বিড়িং লাফিয়ে একটা খরগোসের পিছনে দৌড় লাগিয়েছে, কাছের জলাশয়ের ধার ঘেসে একদল জেব্রা আর হরিন মিলে মিশে যেন ব্রিগেডের মিছিল তৈরী করেছে, আর টার পিছনে সেই আদি অকৃত্তিম আফ্রিকান হাতি, এটা পুরুষ হাতি | বিশাল কান আর বিশাল দাঁত দুটো দিয়ে নিজের আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলছে | আমাকে দেখেই বললো কিরে ভাই কেমন আছিস? আমাদের মধ্যে অনেক গল্প হলো, বললো ওর নাম আপ্পু... বিকেলের দিকে আপ্পুদার পিঠে চড়ে আবার বেড়িয়ে পরলাম | আপ্পু বললো চল তোকে আমার বন্ধুর সাথে দেখা করিয়ে আনি...

আপ্পু বেশ কিছুটা এসে একটা কাঁদা পুকুরের সামনে থমকে দাড়ালো | ওমা দেখি ঘনাদার মতো দেখতে একজন সেই কাঁদা পুকুরে অর্ধেক ডুবে বসে আছে | কি ভাবছেন? আরে না, না এই ঘনাদা সেই ঘনাদা নয়, ইনি হলেন আমাদের জগুবাবুর বাজারে লটকে মাছ বিক্রি করেন সেই ঘনাদা, যার  নাকটা ঠিক দুশো গ্রাম ময়দার দলার মতন টার মুখের উপর লেপ্টে থাকে | সেই ঘনাদার মতো নাক ওয়ালা একটা হিপ্পোপটেমাস মানে জলহস্তি অর্ধেক পুকুরে ডুব মেরে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ইয়া বড় হাই তুলে বললো ক্যায়া বাপ্পাবাবু তুমহি ইয়ে হাঁতী কা দোস্ত আছো? তাল্ হে তো তুমহি হামারহো দোস্ত আছো...আমি বললাম সে তো নিশ্চই হিপোদা | তারপর আমাদের তিন বন্ধু মিলে সেকি গল্প, তবে হিপোটা বড্ড গুলবাজ, বলে নাকি সেই তিনশো বছর ধরে এই পুকুরে আছে আর ওর ভাই ভীষ্মলোচন শর্মা আমাদের আলিপুরের চিড়িয়াখানায় বাস করে | এরপর ওর মোটা মোটা আঙ্গুল দিয়ে খস খস করে একটা চিঠি লিখে আমার পকেটে গুজে দিলো ওর ভাইকে দেবার জন্য...

চিঠিটা একটা গোলাপী কাগজে লেখা তাতে কিরকম একটা আফ্রিকান বুনো বুনো গন্ধ... হঠাৎ মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে দেখি চিঠিটা হাফপ্যান্টের পকেটে নেই তবে ঘর ময় সেই বুনো বুনো গন্ধ... জানলা দিয়ে দেখি ভোরের সবুজ স্বপ্ন ভেঙ্গে আকাশজুড়ে শুধু হলুদ রোদ | তবে ভোরের স্বপ্ন, সে তো চিরকালই গ্রিন গ্রিন, এভারগ্রিন ......

No comments:

Post a Comment