Monday, January 21, 2013

শুভ ইংরেজি নববর্ষ ...


শেষের মনখারাপের দিনগুলোতে আমরা কি শুভেচ্ছা জানাতে পারি? হয়ত পারি !
অথবা আমার মত অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মন কি কাউকে শুভেচ্ছা জানাতে পারে? হয়ত পারে !
আসলে জীবন হলো দিনরাত্রির মত, কালো রাতের পর দিনের আলো ঠেকিয়ে রাখতে পারে কোন বাহাদুর? আমি তো সেখানে অতি নগন্য অনু-পরমানু মাত্র !
তাই আশা আমি করতেই পারি, আসলে আশায় বাঁচে আমাদের মত চাষা ...
আর সেই আশা নিয়ে আমি ভাবতেই পারি কাল সকালের আলো ফোটার  পর থেকে আর কোথাও, কোনো শহরের রাস্তায় মোমবাতি জ্বলবে না,
কোথাও জল-কামান ছুটবে না,
আমার মা, বৌদি, ভাইঝির মতো অন্যের মা, বৌদি, ভাইঝি, বোন, দিদি ও আমার সব মেয়ে বন্ধু গুলো নির্ভয়ে বেঁচে থাকবে ! ...
ব্রিজ করবার জন্য কেউ একটাও গাছ কাটবে না, কেও বনসাই করবে না,
কেউ ডলফিন কে খুচিয়ে খুচিয়ে মারবে না,
কেউ এয়ারপোর্টের ধারে শেয়াল কে না খাইয়ে মারবে না,
বেশি গরম পড়বে না, বেশি ঠান্ডা পড়বে না, ভূমিকম্প হবে না,
রাস্তার ছেলে মেয়ে গুলো মিড ডে মিল পাবে আর পড়তে যাবে,
ইন্ডিয়া টিম টেস্টে একনম্বর হবে ...
ব্যাস এইটুকু চাহিদা আর কি এমন !!!
আর এই সব আশাগুলো আমি যেন ভোরবেলায় স্বপ্ন দেখি, কারণ ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় কিনা ...
আগামী নতুন বছরে সবার ভালো হোক, সবাই হাসি খুশিতে থাকুক ...
শুভ ইংরেজি নববর্ষ ...

"সুরভিত অন্টিসেপ্তিক ক্রীম বোরোলীন"


রাতের এই সময়টা আমার ছাদে এসে দাড়াতে খুব ভালো লাগে, কিন্তু আজ ছাদে এসে দাড়াতেই উত্তর থেকে বেশ কিছু হালকা ঠান্ডা হাওয়া আমার গা ছোঁয়াছুয়ি করে চারপাশে ছড়িয়ে গেল, রাতের আকাশ আজ মেঘাছন্ন, মাথার চাঁদের উপর একরাশ মেঘ জমেছে ! সেই ঘষা মেঘের আড়াল থেকে একছটাক আলো ঢেলে দিয়েছে আমার মাথার উপর, আর সেই চাঁদনী আলোয় শহরটা কেমন যেন থমকে গেছে, উত্সব শেষের রাত্রি গুলো নিস্তব্দ উদাস উদাস...
মাঝে মাঝে মনে হয় এতবড় আকাশের নীচে জীবনগুলো কত্ত ছোট ! তবে নিস্তব্দতা আমার বেশ ভালই লাগে, নিস্তব্দ সময়গুলোর ফাকে ফাকেই লুকিয়ে থাকে আনন্দ কোলাহলের বীজ...


সেই হালকা ঠান্ডা হাওয়াটা আবার নাচানাচি করে উঠলো,আর সেই হাওয়ায় দুরে রাস্তায় তে-কোনা লাইট পোস্টের আলোয় ঝুলতে থাকা তেলাকচুর পাতাগুলোও নেচে উঠলো ! সুনসান রাস্তায় ল্যাম্পপোস্ট গুলো ছায়া ছায়া হয়ে দাড়িয়ে আছে, যেন আলো ছায়ার নক্সা কাটা আদিম মানব মানবী, দু চারটে কুকুর নিজেদের জায়গা দখল নিয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু করেছে যা এই আদি অকৃত্তিম নিস্তব্দতাকে খানখান করে দিচ্ছে ...
আকাশের গোমড়া মুখো মেঘগুলোর ফাঁক দিয়ে অলস চাঁদের আলো আমার বাড়ি লাগোয়া বিশাল ছাতিম গাছটার পাতার ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে যাচ্ছে , ছাতিম ফুলের আকাশ আকাশ গন্ধটা আমার শরীরে এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে দেহটা শিরশির করে উঠলো ! শীত আসছে ...
কয়েকদিন ধরেই কেমন যেন শীত শীত লাগছে! ভোরের দিকে ফ্যানের হাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়, কার্তিক মাসশেষ হতে চললো, একটু বৃষ্টি পরলেই শীতটা আরোও জাকিয়ে পড়বে ! সকালের খবরের কাগজ অথবা রোজ টিভিতে "শীতকাল আসছে" বলে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে ! মানুষের এখন পর্যবেক্ষণ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা খুবই কম তাই হয়ত তাদের শীতের আগমনের কথা মনে করিয়ে দিতে হয় ! বর্ষা, শীতকে বোঝার জন্য আবহাওয়া অফিসের ঘোষণার প্রয়োজন আমার কোনদিন পড়েনি, প্রকৃতির ক্যানভাসে আমার মন, রং-জলে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে !!  সেই কোন ছোট্টবেলা থেকেই জানলা দিয়ে যখন আলাদা রকমের হলুদ রোদ আমার ঘরের মেঝেতে এসে পড়ত, মা যখন দীর্ঘদিন লোহার ট্রান্কে আটকে থাকা লেপ-কম্বল-চাদর-সোয়েটারগুলোকে মাদুর পেতে উঠোনের রোদে শুকোতে দিত, তখনই বুঝতাম শীত আসছে আমার শহর জুড়ে...
তখন শীতে কাকভোরে ঘুম ভাঙিয়ে দিত একদল কীর্তনিয়ার খোল করতালের গান, আধো ঘুম চোখে গায়ের চাদর টাকে মাথায় তুলতে গিয়ে পা দুটো খালি হয়ে যেত, আর ঠান্ডা হাওয়া গুলো পায়ে শুরশুরি দিত ! মাঝে মাঝেই দুপুর বেলায় রেডিও থেকে শুনতে পেতাম "সুরভিত অন্টিসেপ্তিক ক্রীম বোরোলীন" !! আর রাতের আকাশে তারাদের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্বলে উঠত দেশলাই বাক্সের মত বাড়িগুলোর কার্নিশে বাঁধা লাল নীল হলদে সবুজ রঙের বাঁশের লাঠির মাথায় বাঁধা ডুম লাইট গুলো ! আমাদের আকাশ প্রদীপ ...
এখন এই বুড়ো বয়সে মনে হয় , শাওয়ালা কাকুদের হাকডাকে, দুপুরবেলায় লেপের তুলো ধোনা যন্ত্রের ছন্দে আর ফুলকাদার বাড়ির একঝাক পায়রা ওড়ার ডানার শব্দে হয়ত শীত নামত এই শহর কলকাতায় ! ...

আজও শীত নামে এই শহরে, আজও আমার বাড়ির এককোনায় বাঁশের লাঠির মাথায় বাঁধা লাল রঙের ডুম লাইট টা আকাশের দিকে  প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে ! আলোটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম, তারপর আকাশের দিকে তাকলাম, কাওকে হয়ত খোজার চেষ্টা করলাম ! মেঘে ঢাকা  আকাশের গায়ে তারার চিন্হ মাত্র নেই, কালপুরুষ তাও যেন উধাও হয়ে গেছে, হয়ত উত্সবের শেষে সেও বড্ড ক্লান্ত তাই মেঘের আড়ালে চলে গেছে ! এই লোকটাকে আমার বেশ লাগে তাই রোজ রাতে একবার আসি ওকে দেখবার জন্য... "পনেরোশো আলোকবর্ষ" কত দূর... 
আকাশে কালপুরুষের যে আলোটাকে আমরা আজ দেখছি সেটা পনেরোশো বছরের পুরনো আলো, এই কালপুরুষ ধংস হয়ে যাবার পনেরোশো বছর পরও আমরা আকাশে তাকে দেখতে পারব! কে বলেছে আমরা চোখে  যা দেখি সেটাই সত্যি? সত্যি সেটাই যা আমরা অনুভব করি ! কালপুরুষ আলো আঁধারের মায়াবী খেলায় সত্যি মিথ্যে কে রং-জলে মিলিয়ে মিশিয়ে দেয় তার আকাশের ক্যানভাসে, অনেকটা শীতের কুয়াশার মত! ঝাপসা কুয়াশার পিছনেও একটা সুন্দর ছবি থাকে আর সেটাই শীতের সৌন্দর্য্য ! পাতাঝরার মরশুমেই লুকিয়ে থাকে কিশলয়ের স্বপ্ন... 
রবি ঠাকুর তার সহজ পাঠে শীত কে ভালোবেসে আপন করে নেন নি, কিন্তু আমার শীত বেশ ভালই লাগে তাই আমি আনন্দে গুনগুন করে গাইতেই পারি ...
"টুপ টুপ টুপ ঘাসের আগায়, শিশির গুলো চুপ
চুপ চুপ চুপ কুয়াশা আঁকছে, ভোরের বেলার রূপ
শীত শীত শীত ঠান্ডা হাওয়া, চাঁদর মোড়া রাতি
রাত জাগা সব তারা গুলো, জ্বালিয়ে দে তোর বাতি" ...

সেই হালকা ঠান্ডা হাওয়াটা আবার নাচানাচি করে উঠলো, দূর থেকে ট্রেনের একটা শব্দ ভেসে আসছে, রিক্সায়ালার ক্লান্ত চোখ বেয়ে, চায়ের দোকানের নিভে যাওয়া উনুনের মধ্যে দিয়ে গভীর রাত নামছে এই শহরে, আর আমার চোখে নামছে ঘুম ...  

ফ্যাঁচ ফ্যাঁচে, ফ্যান্ছো


ভরদুপুরে চোখ কচলাতে কচলাতে গাছের তলাতে বসতেই, উপর থেকে কেউ বলে উঠলো 'ফ্যান্ছো', ঘাড় ঘুরিয়ে উপরের দিকে তাকাতেই দেখি খ্যাংড়াকাঠি এক চ্যাংড়া ছুঁচো লেজ ঝুলিয়ে পিটিপিটি হাসে, দেড়হাত বেগুন গাছে পাঁচ হাত লেজটাকে গুজিয়ার মত পেঁচিয়ে চশমার তলা দিয়ে আমার দিকে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে আবার ফিচকি হেসে বলে উঠলো 'ফ্যান্ছো' ...
এবার আমার মাথা গেল টক করে গরম হয়ে, দাঁত কিড়মিড় করে রেগে বললাম 'এই কে রে তুই?'  আবার গম্ভীর গলায় উত্তর পেলাম আমার নাম  'ফ্যান্ছো', আমি রেগে বললাম মোটেই না, 'তোর নাম ফ্যান্ছো হতেই পারে না...
অমনি ফ্যান্ছো বলে কিনা, ' বাহ রে বাহ হাতিবাগানের নাম হাতিবাগান হতে পারে, হাম্বাবদনের নাম হাম্বাবদন হতে পারে, আর যদি ঘতত্কচের নাম ঘতত্কচ হতে পারে তালে আমার নামও বা  ফ্যান্ছো হবে না ক্যানো, আলবাত হবে ? আমিও  খানিক ভেবে বললাম, কক্ষনো হতে পারে না, ওরকম নাম রাখলেই হলো? বইতে ওরকম নাম লেখাই নেই...
ফ্যান্ছো বলল, কি বই? 
আমি বললাম তাও জানো না? 'আহাম্মক একটা, ষষ্টী চরণের বইতে সব লেখা আছে, আমি বললাম, এ নাম তোমায় কে দিয়েছে? ফ্যান্ছো খুশি হয়ে বলল, কেউ দেয়নি, ওই শেতলা মন্দিরের ধারে বিরিঞ্চিবাবার দোকানে পাঁচু গোয়ালা বিক্রি করছিল, আমি তিন টাকা সতেরো পয়সায় কিনে নিলুম, সস্তায় পেলুম কিনা!...
আমি বললাম, ‘ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ শেষে কিনা তুমি নাম কিনলে?’
ফ্যান্ছো বলল, ‘কেন? কি হয়েছে?’
আমি রেগে গরগর করে বললাম, ‘এটাও জানো না?’

"নামের আমি নামের তুমি,
নাম দিয়ে যায় চেনা
নাম যে বড় ফালতু জিনিস
যায় না তারে কেনা..."

ফ্যান্ছো খুব জোরে মাথা নেড়ে বলল, এখন উপায়?

আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, 'তোমায় পুলিশে ধরবে, ওরা তোমায় তাইওয়ানে পাঠাবে...
সেখানে সাইত্রিশ দিন সুয্যি ডোবার আগে ও সুয্যি ডোবার পরে গুনে গুনে সাইত্রিশ বার, গুড়ো গুড়ো বরফে ঘষে ঘষে নাকখত দিতে হবে, তারপর সারাগায়ে আঁটা মেখে উনিশ ঘরের নামটা পড়তে পড়তে পায়ে হেঁটে  উলুডাঙা আসতে হবে...'

ফ্যান্ছো কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে বসলো, ‘উলুডাঙা কেন?’

আমি বললাম, 'উলুডাঙাই তো ষষ্টীচরন থাকে, দ্যাখো ফ্যান্ছো তুমি মেলা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কর না, যা বলছি মন দিয়ে শোনো, উলুডাঙা এসে ষষ্টী চরণের বাড়ির কুয়োর জলে চান করে তেত্রিশ বার হ্যাঁচ্চ দিলেই তোমার শাস্তি মুকুব,
তারপরই তুমি নতুন নাম পাবে...'

শুনে ফ্যান্ছো বলল, 'ওমা কেন?'
আমি বললাম, 'তাও জানো না, ওটাই তো নিয়ম...


কিন্তু ফ্যান্ছো বলল, 'আমি যে এখন ঘুমোবো ছয় মাস?'

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা চুলকিয়ে বললাম, 'সেই বিধানও আছে, ঘুমোলে দোষ নাই'
কিন্তু? 
ফ্যান্ছো তড়িঘড়ি বলল, 'কিন্তু কি?'

আমি বললাম,  তোমায় লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোতে হবে, আর মিহি সুরে নাক ডাকতে হবে...


ফ্যান্ছো বুক ফুলিয়ে বলল, 'ও এই ব্যাপার?'

 আমি বললাম,  'না আরোও আছে, ঘুমোনোর আগে তিন চামচ নারিকেল তেলে পাঁচ চামচ কর্পুর আর সন্ধব লবন মিশিয়ে তোমার লেজে মেখে, সেই লেজ একটা বালতির জলে ডুবিয়ে গান গাইতে হবে....

ফ্যান্ছো আবার কাঁচুমাঁচু মুখ করে বলল, 'সেকি কি গান?' 

আমি বললাম,  ‘উদবিড়ালে খুদ খায়, মাগুর বাজায় ঢোল' ব্যাস তালেই সব ঠিক হয়ে যাবে' |


ফ্যান্ছো খুশিতে তিনবার লাফিয়ে জিগ্গেস করলো, 'আচ্ছা ভাই এই দুপুরে তোমার সাথে এত অন্তরঙ্গ আলাপ হলো, তা তোমার নাম কি ভাই?'

আমিও আল্হাদে আধখানা হয়ে বললাম, 'আমার নাম পেঁয়াজ'  

তারপর আমি বললাম, আচ্ছা আজ আমি আসি, 

ফ্যান্ছো বলল, 'আরো একটু বসলে হত না?'

আমি বললাম, 'না মগের মুলুক নাকি? আমি বসি আর তুমি সেই সুযোগে আমার বেলা বইয়ে দাও...' 


ফ্যান্ছো তাতে বলল, 'কেন তালে কি হয়েছে?'

আমি বললাম, 'না মা কড়াইতে তেল গরম করছে, আমিও সেই ফাঁকে একটু গা গরম করতে বেড়িয়েছিলুম আর তোমার সাথে দেখা হলো...'

ফ্যান্ছো তড়িঘড়ি বলল, 'কড়াইতে তেল গরম কেন? পেঁয়াজি হবে নাকি?'

আমি বললাম, হ্যা,

ফ্যান্ছো  বলল, 'আর কি হবে?'

আমি বললাম, ‘মাছের ডিম’


ফ্যান্ছো  বলল, ‘কোন মাছ?’

আমি বললাম, 'তাও জানো না’, 

'শাকের রাজা পুঁই, মাছের রাজা রুই'


ফ্যান্ছো অমনি বলে বসলো, 'সান বাধানো ভুঁই, গোবর জলে ধুই'

আমিও বা কম যাই কেন? আমার নামও পেঁয়াজ, তাই আমিও বলে বসলাম,

'রুইয়ের পেটে ডিম, তারা হাট্টিমাটিম টিম'

ফ্যান্ছো বলল, ‘কটা ডিম?’

আমি বললাম, ‘দুটো ‘

ফ্যান্ছো বলল, ‘কি রঙ?’

আমি বললাম, 'লাল আর নীল'


ফ্যান্ছো বলল, ‘ডিম ফুটে কি বেরুবে?’


আমি বললাম, ‘ঘোড়ার ছানা’ 

ফ্যান্ছো বলল, ‘ওদের নাম কি?’

আমি বললাম, 'লালকমল আর নীলকমল'

ফ্যান্ছো বলল, ‘ওদের নাম কে দিয়েছে?’

আমি বললাম, 'ষষ্টীচরন'

যেই না বলা অমনি দেখি কে যেন বেগুন গাছের ডালে বসে পা ঝুলিয়ে বলছে...

‘হাও মাও খাও,  ‘হাও মাও খাও, আমার নাম ধরে কে ডাকে রে?

অমনি আমরা দুজনে লেজ গুটিয়ে সুড়ুত করে ফুড়ুত হয়ে ঝোপের ভিতর পালিয়ে গেলুম...

ছোটবেলার খেলাগুলো ...

ছোটবেলার সময়গুলোকে যদি পকেটে নিয়ে পথ হাঁটতাম তালে কি ভালই না হতো, মাঝে মাঝেই প্যান্টের ছেড়া পকেট থেকে সেগুলো টুপটুপ করে ঝরে পরত, আর সেই ঝরে পরা  সময়গুলোর সাথে বেড়িয়ে পরতাম সীমানা ছাড়িয়ে...
যাইহোক সেতো আর হবার নয় তবে আমার  ছোটবেলার সবথেকে বেশি মনে পরে  ছোটবেলার খেলা গুলো, এখন তো বাচ্চা দের কত নতুন নতুন খেলনা আর কত খেলা, ভিডিও গেমস থেকে শুরু করে কম্পুটার, রোবট, রিমোট গাড়ি, প্লেন থেকে শুরু করে আরো কত কি, কিন্তু আমার ছোটবেলায় এত কিছু ছিল না, তাই আমি আমার ছোটবেলার খেলাগুলোকে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতাম...

সে অনেককাল আগেকার কথা, প্রাগৈতিহাসিক যুগ, তখন তোমরা কেও জন্মাওনি, ঠিক তখন কোন ছোট্টবেলায় বাবার হাত ধরে ঝুলনের মেলায় মাটির পুতুল কিনতাম আর একটা ডুগডুগি গাড়ি । পরদিন সকালবেলায় ডুগডুগি গাড়ি টার মুখে দড়ি বেঁধে বাড়ির উঠোনময় দৌড়ে বেড়াতাম, কিন্তু সেই মাটির পুতুলগুলো নিয়ে মা খেলতে দিত না, সেগুলো মা ঘরের দেয়ালে উঁচু একটা কাঠের তক্তার উপর রেখে দিতো । আমাদের পাশের একটা মস্ত এক লাল রঙের বাড়ি তে ভ্যাগাই থাকত, ও আমার বন্ধু, ওর ক্যারাম বোট ছিল, সবাই খেলত কিন্তু মা আমাকে যেতেই দিতো না । তাই আমি ভাবতাম ক্যারাম বোট বুঝি বড়লোকদের খেলনা, আর মুখ গোমরা করে বসে থাকতাম, তখন দাদা কাগজ দিয়ে এরোপ্পেলেন বানিয়ে দিতো,  ঘরের একোন থেকে সেকোন এরোপ্পেলেন উড়াতাম, আর ঘরের মাঝে আকাশ নেমে আসতো । মাঝে মাঝে বানিয়ে দিতো কাগজের নৌকো, গামলার জলে সেই নৌকো ভাসিয়ে দিতাম, আর চিনির কৌটো থেকে পিপড়ে বারকরে সেই নৌকায় দিয়ে দিতাম, তখন পিপড়ে নিয়ে নৌকো দুলতে দুলতে গামলার জলে ঘুরপাক খেতো । আর দাদা বানিয়ে দিতো কাগজের বল, অনেক কাগজ মুঠো করে গার্ডার পেঁচিয়ে কাগজের বল বানিয়ে দিতো, আমি সেই বল দেয়ালে ছুড়ে মারতাম আর কাঠের ইস্কেল দিয়ে ব্যাট বল খেলতাম । সেই বল কাঠের তলায়, ফোটোর পিছনে গেলেই চার-ছয় কিন্তু জানলা দিয়ে বেড়িয়ে গেলেই আর রান্নায় পরলেই খেলা বন্ধ হয়ে যেতো । মাঝে মাঝে গাড়ি গাড়ি খেলতাম, ঘরের জানলায় পা ঝুলিয়ে বসে মুখ দিয়ে ‘হু হু হু হু’ করে শব্দ করে বাস, রেলগাড়ি থেকে শুরু করে এরোপ্পেলেন, জাহাজও চালাতাম  । কতলোক চড়ত আমার সেই গাড়িতে...

তবে ছোটবেলার সেই খেলাগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি মজা লাগত আমার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে, রান্নাঘর থেকে হাতা, খুন্তি অথবা ডালের কাঁটা নিয়ে নিজে নিজেই  যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম, কখনও বাঁহাতে আলেক্সজান্ডার, ডানহাতে পুরু তো আবার কখনো  ডানহাতে মহারানা প্রতাপ  আর বাঁহাতে আকবর, আর তারপর  হাতা, খুন্তির ঠোকাঠুকিতে  যুদ্ধ হত আর মায়ের কাছে গল্প শুনতে শুনতে আমি ঘুমিয়ে পরতাম...

এখন এই মারকাটারি ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের যুগে ছোটরা কেও অপু, শ্রীমান পৃথিরাজের মত  যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে না, তাই তারা হয়ত বড় হয়ে সত্যিকারের যুদ্ধে মেতে ওঠে কাশভের মত...

Thursday, September 6, 2012

“Valentine Day”


“Valentine Day”
ghum aseni tokhono..

ekta klanti meshano tondra’r vab chokher pata duto ke kromosho durbol kore dichchhilo.. ghori’r kata jeno thomke ache !!

ekta jhim dhorano beguni aloy amar ghorer deoyal gulo makha-makhi kore dariye achhe, aar ami jeno kono ek aadim manob !! hoyto ba kalpurush, balisher tolay aadkhana chaNd lukiye rekhechhi.. sei chaNd’er halka alor chhoNyay ami hariye jachchhilam kromosho..

mone pore jachchhilo sobkichhu.. aste aste kono ek time-machine er otol ondhokar-e nikkhep korlam nijeke...

chokher samne vese uthlo sei din tar chhobi.. kichhuta abchha aloy kichhuta ondhokare, kolkatay rat hochchhilo tokhon !! rojkar klanti, duschinta, meki hasi, meki valobasa ke dure soriye diye amra du-jone chhute giyechhilam sudhu kichhu pabar ashay !!

din ta chhilo 14th February “valentine day” kolkatar rastar jaan-jot, jha chokchoke alor theke mukh firiye amra ese dariye chhilam faka rastay ekta chhotto dhabar samne.. balb er badami aloy dhaba khana ke joypur er hawa mahal mone hocchhilo… amra dujone rastay pata ekta benche paa jhuliye mukho-mukhi bose eke opor ke sudhu dekhchhilam.. somoy ta jeno thomke giyechhilo.. sudhu amader mathar upor neelche ronger dhrubo tara ta focus light er moton jege chhilo.. aar sei aloy “Rupu” mane Rupkothar mukhta prajapotir moto neelche o shanto sundor lagchhilo..

o amar dike takiye haschhilo..

ami or angul chhuye bolechhilam “hassle tomake khub sundor dekhay..”

o amay bolechhilo “dhyatt.. hasle to tomakeu besh amir khan lage...”ami or dike takiye chhilam...

erpor dujone mile ek plate ghugni paoruti kheye dhabar baccha chhele ta potlar hate 2 take guje beriye esechhilam (jibone prothom bar tips diyechhilam ) 

tarpor amra onek ta rasta angul chhute chhute hatte hatte bari fire chhilam… amra hariye giyechhilam ek onnyo jogote…rastay pore thaka onath iter tukro gulor sathe ami football khelchhilam, kokhono Messi, kokhono Ronaldor moto payer jadu velki te segulo achhre porchhilo pasher footpath e…aar o khub haschhilo!!Saradiner loker bari basan maja, kapor kachar poreo or ei klantihin, okrittim hasi amake pouchhe diyechhilo ek swapner rat e… Rupu chole geleo Rupkothar sei mayabi raat amay ajo rangiye diye jay… provater alo se rat er ondhokar ke alokito korte pare na!!

Janla diye Surjyodoyer alo mukher upor ese porechhe, kokhon je kalo ondhokar ke dure soriye vor er alo fute uthechhe kheyal korini..kal rat’er beguni aloy mora swapno take ga theke jhere fele bichhana chhere uthe daralam, janala diye vitore dhoka surjyer aloy totokkhone amar ekta chhya-murti tairi hoyechhe, kintu onek chesta koreo chhaya take chhute parlam na, keno parlam na?? notun vor’er aloy swopner chhaya gulo mone hoy emni korei dure sore jay, dure theke jay ajibon....!!!