ছোটবেলার সময়গুলোকে যদি
পকেটে নিয়ে
পথ হাঁটতাম
তালে কি
ভালই না
হতো, মাঝে
মাঝেই প্যান্টের
ছেড়া পকেট
থেকে সেগুলো
টুপটুপ করে
ঝরে পরত,
আর সেই
ঝরে পরা
সময়গুলোর সাথে বেড়িয়ে পরতাম সীমানা
ছাড়িয়ে...
যাইহোক সেতো আর
হবার নয়
তবে আমার
ছোটবেলার সবথেকে বেশি মনে পরে
ছোটবেলার খেলা গুলো, এখন তো
বাচ্চা দের
কত নতুন
নতুন খেলনা
আর কত
খেলা, ভিডিও
গেমস থেকে
শুরু করে
কম্পুটার, রোবট, রিমোট গাড়ি, প্লেন
থেকে শুরু
করে আরো
কত কি,
কিন্তু আমার
ছোটবেলায় এত কিছু ছিল না,
তাই আমি
আমার ছোটবেলার
খেলাগুলোকে নিজের মত করে সাজিয়ে
নিতাম...
সে অনেককাল আগেকার কথা, প্রাগৈতিহাসিক যুগ, তখন তোমরা কেও জন্মাওনি, ঠিক তখন কোন ছোট্টবেলায় বাবার হাত ধরে ঝুলনের মেলায় মাটির পুতুল কিনতাম আর একটা ডুগডুগি গাড়ি । পরদিন সকালবেলায় ডুগডুগি গাড়ি টার মুখে দড়ি বেঁধে বাড়ির উঠোনময় দৌড়ে বেড়াতাম, কিন্তু সেই মাটির পুতুলগুলো নিয়ে মা খেলতে দিত না, সেগুলো মা ঘরের দেয়ালে উঁচু একটা কাঠের তক্তার উপর রেখে দিতো । আমাদের পাশের একটা মস্ত এক লাল রঙের বাড়ি তে ভ্যাগাই থাকত, ও আমার বন্ধু, ওর ক্যারাম বোট ছিল, সবাই খেলত কিন্তু মা আমাকে যেতেই দিতো না । তাই আমি ভাবতাম ক্যারাম বোট বুঝি বড়লোকদের খেলনা, আর মুখ গোমরা করে বসে থাকতাম, তখন দাদা কাগজ দিয়ে এরোপ্পেলেন বানিয়ে দিতো, ঘরের একোন থেকে সেকোন এরোপ্পেলেন উড়াতাম, আর ঘরের মাঝে আকাশ নেমে আসতো । মাঝে মাঝে বানিয়ে দিতো কাগজের নৌকো, গামলার জলে সেই নৌকো ভাসিয়ে দিতাম, আর চিনির কৌটো থেকে পিপড়ে বারকরে সেই নৌকায় দিয়ে দিতাম, তখন পিপড়ে নিয়ে নৌকো দুলতে দুলতে গামলার জলে ঘুরপাক খেতো । আর দাদা বানিয়ে দিতো কাগজের বল, অনেক কাগজ মুঠো করে গার্ডার পেঁচিয়ে কাগজের বল বানিয়ে দিতো, আমি সেই বল দেয়ালে ছুড়ে মারতাম আর কাঠের ইস্কেল দিয়ে ব্যাট বল খেলতাম । সেই বল কাঠের তলায়, ফোটোর পিছনে গেলেই চার-ছয় কিন্তু জানলা দিয়ে বেড়িয়ে গেলেই আর রান্নায় পরলেই খেলা বন্ধ হয়ে যেতো । মাঝে মাঝে গাড়ি গাড়ি খেলতাম, ঘরের জানলায় পা ঝুলিয়ে বসে মুখ দিয়ে ‘হু হু হু হু’ করে শব্দ করে বাস, রেলগাড়ি থেকে শুরু করে এরোপ্পেলেন, জাহাজও চালাতাম । কতলোক চড়ত আমার সেই গাড়িতে...
তবে ছোটবেলার সেই খেলাগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি মজা লাগত আমার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে, রান্নাঘর থেকে হাতা, খুন্তি অথবা ডালের কাঁটা নিয়ে নিজে নিজেই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম, কখনও বাঁহাতে আলেক্সজান্ডার, ডানহাতে পুরু তো আবার কখনো ডানহাতে মহারানা প্রতাপ আর বাঁহাতে আকবর, আর তারপর হাতা, খুন্তির ঠোকাঠুকিতে যুদ্ধ হত আর মায়ের কাছে গল্প শুনতে শুনতে আমি ঘুমিয়ে পরতাম...
এখন এই মারকাটারি ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের যুগে ছোটরা কেও অপু, শ্রীমান পৃথিরাজের মত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে না, তাই তারা হয়ত বড় হয়ে সত্যিকারের যুদ্ধে মেতে ওঠে কাশভের মত...
No comments:
Post a Comment