Thursday, September 6, 2012

স্বপ্ন, চিরকালই গ্রিন গ্রিন, এভারগ্রিন ......


স্বপ্ন …  (১)

রোববারের দুপুরের ঘুম টা বেশ ভালই দিলাম, কিন্তু আজ একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম... স্বপ্নে দেখলাম চারজন শালওলা ( মানে যারা ওই কাশ্মীর থেকে আসে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে শাল, সোয়েটার বিক্রি করে, তারা ) হাতির পিঠে চেপে আমাদের বাড়ি শাল বিক্রি করতে এসেছে | ওরা চারটে হাতির পিঠে বসে আছে আর সঙ্গে করে আরো একটা হাতি নিয়ে এসেছে | মা দুটো ফুলহাতা সোয়েটার কিনলো, একটা আমার জন্য, একটা দাদার জন্য | কিন্তু এই প্রচন্ড গরমে মা সোয়েটার কেন কিনলো বুঝতে পারলাম না, অবশ্য স্বপ্নে সোয়েটার কেনা যায় | যাইহোক আসল কথায় আসি, স্বপ্নে দেখলাম ওই চারজনের মধ্যে একজন কাচুমাচু মুখ করে মাকে বলল "মাসিমা আপনি একঠো হাতি খরিদকে লেন", মা তো অবাক, বলল সেকি আমি ছাপোষা মানুষ, হাতি কিনব কি? কিন্তু সেই শালওলা কোনমতেই কথা শোনে না, অবশেষে মা দুটো পুরনো শাড়ির বিনিময়ে একটা হাতি কিনেই ফেলল… হাতি টাকে বাড়ির সামনের লাইট পোস্টে বেঁধে সেই শালওলারা চলে গেল | কিন্তু সমস্যা হলো বাড়িতে, মা বলল হাতিটাকে সিড়ির তলায় ফাকা জায়গায় রাখবে, আবার দাদা বলল না ওটাকে ছাদে রাখা হোক | সেই নিয়ে বাড়িতে তখন হুলুস্থুল কান্ড | কিন্তু হাতিটার তাতে কোনো হেলদোল নেই সে লাইট পোস্টের সামনে দিব্যি বসে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল আর কান নাড়ছিল, আমি একটা বিস্কুট দিতেই সে শুঁড় দিয়ে আমার হাত টা জড়িয়ে ধরল, এমন সময় ঝুপ করে আমার স্বপ্ন টা ভেঙ্গে গেল, জানলা দিয়ে দেখলাম "আকাশে কালো মেঘ করেছে..."

স্বপ্ন, চিরকালই গ্রিন গ্রিন, এভারগ্রিন ......  (২)

এবারের গরমের ছুটিতে সোজা মামাবাড়িতে দুধভাত খেতে হাজির, ভোরবেলায় দিদিমা তখন আম, জাম, জামরুল, আশফল, নারিকেল ঘেরা উঠান ঝাট দিচ্ছে,  আমিও দিদিমার পিছন পিছন ঘুরু ঘুরু করছি আর আশফল কুড়োচ্ছি | এমন সময় দেখি আশফল গাছের গা ঘেসে ওঠা তেলাকচু পাতার জঙ্গলে একটা ইয়া বড় কাঠবেড়ালি বসে লেজ দোলাচ্ছে, ব্যাস তড়াক করে টেনিদার গল্পের কাঠবেড়ালিটার কথা মনে পড়ে গেলো, ওরকম একটা কাঠবেড়ালি আমারও যে চাই, চুপি চুপি পা টিপে টিপে তেলাকচু পাতার জঙ্গলের দিকে এগিয়ে গিয়ে যেই না লেজ টাকে চেপে ধরলাম, অমনি ঝুপ, ধুম, ধড়াম এক্কেবারে পা হড়কে জঙ্গলের ওপারে, কিছুক্ষণ মাথা ঝিমঝিম আর অন্ধকার তারপর যেই না চোখ খুললাম চারধারে শুধু সবুজ আর সবুজ...

আগে জানতাম তেলাকচু পাতার জঙ্গলের ওপারে মালতি পিসিদের বাড়ি | কিন্তু এতো মালতি পিসির বাড়ি নয় এ যে এক বিশাল মাঠ, বড় বড় সবুজ ঘাসে ভরা মাঠ তবে এ মাঠ ময়রাডাঙ্গার মাঠও নয়... এ তো আফ্রিকার "সেরেংগেটি" ময়দান... লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই বিশাল তৃণভূমিতে হাতি, সিংহ, নেকড়ে, হরিন, জেব্রা, জিরাফ আর সেই হিপ্পোপটেমাসরা বাস করে, আর আমি এখন সেই খানে ভেবেই কিরকম একটা আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম আর সঙ্গে সঙ্গে শুনি দৈববানী “এই কে রে তুই?” চামচিকের মতো চমকে আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখি জিরাফদা, হলদে কালো ইউনিফর্মটাকে গায়ে চাপিয়ে আমার দিকে মিটি মিটি চেয়ে হাসছে | আমিও একটু ফিকফিকিয়ে হেসে উঠলাম... বন্ধু হলাম দুজনে আর এগিয়ে চললাম...

তখন দুপুর বেলা, সুর্য মধ্যগগনে, সিংহ মহাশয় কেশর দুলিয়ে জেব্রা বিরিয়ানি দিয়ে লাঞ্চ সারছে... আমার দিকে তাকিয়ে লেজ নেড়ে কুশল বিনিময় করলো, দুরে সিংহের মামা নরহরি দাস তিড়িং বিড়িং লাফিয়ে একটা খরগোসের পিছনে দৌড় লাগিয়েছে, কাছের জলাশয়ের ধার ঘেসে একদল জেব্রা আর হরিন মিলে মিশে যেন ব্রিগেডের মিছিল তৈরী করেছে, আর টার পিছনে সেই আদি অকৃত্তিম আফ্রিকান হাতি, এটা পুরুষ হাতি | বিশাল কান আর বিশাল দাঁত দুটো দিয়ে নিজের আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলছে | আমাকে দেখেই বললো কিরে ভাই কেমন আছিস? আমাদের মধ্যে অনেক গল্প হলো, ও বললো ওর নাম আপ্পু... বিকেলের দিকে আপ্পুদার পিঠে চড়ে আবার বেড়িয়ে পরলাম | আপ্পু বললো চল তোকে আমার বন্ধুর সাথে দেখা করিয়ে আনি...

আপ্পু বেশ কিছুটা এসে একটা কাঁদা পুকুরের সামনে থমকে দাড়ালো | ওমা এ দেখি ঘনাদার মতো দেখতে একজন সেই কাঁদা পুকুরে অর্ধেক ডুবে বসে আছে | কি ভাবছেন? আরে না, না এই ঘনাদা সেই ঘনাদা নয়, ইনি হলেন আমাদের জগুবাবুর বাজারে লটকে মাছ বিক্রি করেন সেই ঘনাদা, যার  নাকটা ঠিক দুশো গ্রাম ময়দার দলার মতন টার মুখের উপর লেপ্টে থাকে | সেই ঘনাদার মতো নাক ওয়ালা একটা হিপ্পোপটেমাস মানে জলহস্তি অর্ধেক পুকুরে ডুব মেরে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ইয়া বড় হাই তুলে বললো “ক্যায়া বাপ্পাবাবু তুমহি ইয়ে হাঁতী কা দোস্ত আছো? তাল্ হে তো তুমহি হামারহো দোস্ত আছো...” আমি বললাম সে তো নিশ্চই হিপোদা | তারপর আমাদের তিন বন্ধু মিলে সেকি গল্প, তবে হিপোটা বড্ড গুলবাজ, বলে ও নাকি সেই তিনশো বছর ধরে এই পুকুরে আছে আর ওর ভাই ভীষ্মলোচন শর্মা আমাদের আলিপুরের চিড়িয়াখানায় বাস করে | এরপর ও ওর মোটা মোটা আঙ্গুল দিয়ে খস খস করে একটা চিঠি লিখে আমার পকেটে গুজে দিলো ওর ভাইকে দেবার জন্য...

চিঠিটা একটা গোলাপী কাগজে লেখা তাতে কিরকম একটা আফ্রিকান বুনো বুনো গন্ধ... হঠাৎ মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে দেখি চিঠিটা হাফপ্যান্টের পকেটে নেই তবে ঘর ময় সেই বুনো বুনো গন্ধ... জানলা দিয়ে দেখি ভোরের সবুজ স্বপ্ন ভেঙ্গে আকাশজুড়ে শুধু হলুদ রোদ | তবে ভোরের স্বপ্ন, সে তো চিরকালই গ্রিন গ্রিন, এভারগ্রিন ......

Saturday, May 26, 2012

মে দিবস ~ আর কতগুলো নীল প্রজাপতির স্বপ্ন


কাল মে দিবস, ছুটি | ভেবো না যে আমি আবার শ্রমিক? আমি রীতিমত গ্রাজুয়েট পাশ করা অফিসবাবু, যাকে বলে মাছি মারা কেরানী | যাইহোক কাল ছুটি এটাই মোদ্দাকথা, আমি শ্রমিক না কেরানী তাতে কিছু আসে যায় না | কাল পায়ের উপর পা টি তুলে আরাম করে ছুটি এনজয় করব আর নাক দেকে ঘুমোবো, কিন্তু ওসব কথার কথা, আমি আবার নাক ডাকতে পারি না, ছোটবেলা থেকেই আমার সাইনাস, তাই নাক দিয়ে শুধু হাওয়া বেরোয়, শব্দ হয় না |  তাই এই ছুটির দিনে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ঘুম, তারপর ঢুলুঢুলু চোখে ব্রাশ ও স্নান সেরে মায়ের হাতের লুচি আর কালোজিরে দিয়ে তৈরী আলুর ঝোল দিয়ে ব্রেকফাস্ট টা করব | তারপর সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে ল্যাপটপে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট দেবো, আর তার সঙ্গে দুপুর বেলায় পড়ে ফেলবো এবারের উনিশ কুড়ি টা, এবারের সংখ্যায় স্মরন্জিতের প্রেমের গল্পটা নাকি ফাটাফাটি | আমার তো আর এ জীবনে প্রেম হলো না তাই ছুটির দুপুর গুলো প্রেমের গল্প পরেই কাটিয়ে দিলাম | ওদিকে আমারই বন্ধু পল্টু, ব্যাটা এইট পাশ, কতবার আমার খাতা দেখে চুরি করে উতরে গেছে | সেও আমার নাকের ডগা দিয়ে, বিকেল বেলায় নিজের লাল চিকনাই মার্কা হিরো হন্ডা বাইক এর পিছন সীটে বুলটিকে চাপিয়ে ভিক্টোরিয়া ঘুড়ে আসে, এই তো সেদিন বিদ্যার "কাহানি" ও দেখিয়ে নিয়ে এলো |  


যাইহোক কাল ছুটির দিনটাতে আর কোনো কাজ রাখিনি | তাই অফিস থেকে ফিরেই এই সন্ধ্যেবেলায় ছুট লাগলাম বাচ্চুদার দোকানে | একমাথা চুল আর একগাল দাড়ি কেটে নাটোর কোটর হয়ে যখন সেলুন থেকে বেরোলাম, পুরো "দিল চাহতা হে" এর আমির, মাইরি বলছি রং জন্ম থেকেই আমার দুধে আলতা, ফেরবার পথে মধুকাকুর মেয়ে বুলটি এমন ভাবে ঝারি মারলো যে পুরো গলে "গজল" হয়ে গেছি | বুলটির চোখের চাহুনি, আর বাচ্চুদার মাখানো নীল আফটার সেভের গন্ধে মনটা আচ্ছন্ন হয়ে আছে | মনে হচ্ছে চোখের সামনে কত শত নীল প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে, আর ওদের মধ্যে রানী প্রজাপতিটা, তার গায়ের রঙ অবিশ্যি হলুদ, সে হলো মধুকাকুর মেয়ে বুলটি | বাড়ি ফিরে এসে বিছানায় ধপাস করে বসলাম যেন রাজ্য জয় করে ফিরেছি | অবশ্য কোনো এক বাবাজি মায়ের হাত দেখে নাকি বলেছে তার ছোট ছেলে একদিন রাজা হবে, তবে কোন দেশের সেটা বলতে পারেনি | তোমাদের চুপি চুপি একটা কথা বলে রাখি রোজ সকালে যখন বাথরুমের কোমটে গিয়ে বসি তখন নিজেকে কেমন রাজা রাজা বলে মনে হয় | বাদ দাও রাজা সাজা বুঝি আর এ জীবনে হলো না | নীল আফটার সেভের গন্ধে যখন চারপাশ আচ্ছন্ন ঠিক তখনি মা এসে বলল "কি রে বাবু মুড়ি খাবি?" কোন দেশের রাজা মুড়ি চিবিয়েছে তার খবর আমার জানা নেই... তাই বাংলার পাঁচের মতন মুখ করে গম্ভীর ভাবে বললাম "না" | এরপর সোজা বাথরুমে ঢুকে পরলাম, দেহের কাপড় খুলে আয়নার সামনে দাড়ালাম, নিজেকে ছাল ছাড়ানো ছাগলের মতন লাগলো, ভয়ে তাড়াতাড়ি শাওয়ার চালিয়ে দিলাম | কৃত্তিম বারিধারায় দেহের নোনা ঘামের সঙ্গে সেই নীল আফটার সেভের গন্ধও যেন ধুয়ে মুছে গেল | 


সেলুন থেকে ফেরবার পথে দেখলাম পাড়াটা বেশ সেজে উঠেছে, লাইটের ডুম গুলো কে লাল চকমকি কাগজে মুড়ে, আর লাল পতাকায় ঢেকে গেছে গোটা পাড়া, ছোটবেলায় আমি মে দিবস বলতে বুঝতাম মাক্সিম গোর্কির মা, লেলিন, আর উত্পল দত্ত | এখন বড় হয়ে বুঝেছি মে দিবস মানে মান্না দে এর জন্মদিন | মে ডে মানেই মান্না ডে | ইতিহাস আমার কোনদিনই প্রিয় নয়, অবিশ্যি ক্লাস নাইনে একবার ইতিহাসে সাতাশি নাম্বার পেয়েছিলাম | বন্ধুরা বলত ওটা নাকি যোগেশ স্যার (যাকে আমরা আলু স্যার বলে খেপাতাম) আমাকে ভালোবেসে দিয়েছিল আমি ফার্স্ট বেঞ্চে বসি বলে | তবে এ কথা না মেনে কোনো উপায় নেই ইতিহাস সম্মন্ধে আমার জ্ঞান খুবই কম, অশোক, আলেকজান্ডার, সমুদ্রগুপ্ত, হর্ষবর্ধন পরবর্তী ইতিহাস আমাকে রোমাঞ্চিত করে না | আলেকজান্ডারের যুগ থেকে যেই ব্রিটিশ যুগে আসি নিজেকে যেন অপুর নিশ্চিন্তিপুর থেকে আজকের যাদবপুরে হারিয়ে ফেলি | তাই মে দিবস নিয়ে আমার জ্ঞান নগন্য | মে দিবস বলতে আমি আজও বুঝি কাস্তে হাতুড়ি মার্কা লাল পতাকা, যেগুলো শম্ভুকাকুর চায়ের দোকানের মাথায়, অথবা লাইট পোস্টের গায়ে গোজা থাকে | আমার কাছে মে দিবস মানে শুধুই ছুটির দিন বড়জোর একটা নীল আফটার সেভের গন্ধ আর কতগুলো নীল প্রজাপতির স্বপ্ন |

Wednesday, April 25, 2012

গন্ধচুরি


দেশ জুড়ে হইচই, তোলপাড় কান্ড
চারপাশে ফুল আছে, নেই তার গন্ধ।
রুপ আছে, রং আছে, দেখতে কি খাসা
গন্ধ নেই, ফুল তার হারিযেছে ভাসা।
গাছে-গাছে বেল ফুল, জুঁই ফুল ফোটে
গন্ধ কই? বেমানান ভাল নয মোটে।
যেন রকমারি কাগজের মিছিমিছি ফুল
ভ্রমরাও ভুল করে ফোটায় না হুল। 
ছোট বড় সকলের চিন্তা ভারি
গন্ধ কোথা হারালো? কোথা তার বাড়ি?
কেও ডাকে পালোয়ান, কেও ডাকে বদ্যি
খবর গেল রাজার কাছে, কেঁপে ওঠে গদ্দি
রাজা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা, ভেবে মাথা চুলকায়
রেগে গিয়ে প্রানপনে খুঁটে খুঁটে নোখ খায়
চিত্কার চেঁচামেচি, ডেকে আনে মন্ত্রী
কে এই গন্ধচোর? করো তারে বন্দি
শত শত সৈন্য রাত জেগে পাহারায়
চোর কে তবু কেও ধরিতে নাহি পায়
দিন কাটে, মাস কাটে ফুলে নেই গন্ধ
মন খারাপে রাজার নাওয়া খাওয়া বন্ধ 
সেই দেখে রাজার কুমার পক্ষীরাজে চড়ে
ফুলের বাগান পাহারা দিল হেতায় হোতায় ঘুরে 
চুপি চুপি ভোর রাতে ফুলপরী এসে 
ফুলের গন্ধ চুরি করে মিষ্টি করে হেসে
সোনারকাঠি, রুপোরকাঠি যেই না ছোঁয়ায় ফুলে 
গন্ধগুলো ফুসমন্তর অমনি যে যায় চলে
রাজার কুমার অবাক হয়ে, বলে ও ফুলপরী?
আমাদের ফুলের গন্ধ করছো কেন চুরি?
ফুলপরী রেগে বলে তোরা বড্ড পাজি
ফুলের মধ্যে গন্ধ আমি রাখতে নই আর রাজী
গাছের তোরা যত্ন নিস্‌না, ফুল বাসিসনা ভালো
কাগজ ফুলে ঘর সাজাস, তোদের মনগুলো সব কালো
রাজার কুমার কানটি ধরে বলে "আর হবে না ভুল"
মিষ্টিপরী ফিরিয়ে দাও আমাদের গন্ধমাখা ফুল
হেসে উঠে ফুলপরী বলে মনে রাখিস, যত্ন করিস ভাই
ফুলের মত সুন্দর এই ভুবনে আর যে কিছুই নাই
সোনার কাঠির পরশ দিয়ে গন্ধ দিলো ফুলে
বিদায় বন্ধু জানিয়ে ফুলপরী উড়ে গেল চলে 
স্বপ্ন দেখে রাজার কুমার ঘুম ভেঙ্গে হাসে
ফুলপরী যে তারই দিদি, ঘুমিয়ে আছে পাশে।




Monday, April 16, 2012

ভূমিকম্প ~ ও সংবাদ চ্যানেল

দুপুর থেকে আমাদের প্রিয় বাংলা সংবাদ চ্যানেল মুন আনন্দ দেখিয়ে যাচ্ছে যে, যে কোনো সাধারণ মানুষ ভুমিকম্পের সময় তার সরাসরি বিবরণ টেলিফোনের মাধ্যমে তাদেরকে জানাতে পারেন | ঠিক এইরকম সময় সংবাদ চ্যানেলের সঙ্গে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মানুষটির কথপোকথন কেমন হবে তার একটু নমুনা দিলাম...


সংবাদ চ্যানেলের উপস্থাপিকা (বেলা বোস) - নমস্কার, আজ আমরা কলকাতা ভুমিকম্পের উপর সরাসরি এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি করছি | আমাদের চ্যানেল সর্বপ্রথম এই অনুষ্ঠানটি করছে, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরটি হলো ২২৪৪১১৩৯


পু পু ... পু পু ...


আচ্ছা একটা ফোন এসেছে আমরা এবার ফোনটা নিয়ে নেব
হ্যালো নমস্কার, মুন আনন্দ...


(ফোনের উল্টো দিক থেকে ) সাধারণ মানুষ -  হ্যালো, হ্যালো... হ্যালো...


উপস্থাপিকা - হ্যালো বলুন শুনতে পাচ্ছি


সাধারণ মানুষ - হ্যালো দিদি নমস্কার, নমস্কার দিদি
হ্যালো দিদি, আমি বাপ্পা, নমস্কার দিদি


উপস্থাপিকা - হ্যা শুনতে পাচ্ছি, বলুন, আপনি কোথা থেকে বলছেন? আপনার নামটি বলবেন?


সাধারণ মানুষ - হ্যালো দিদি নমস্কার, আমি বাপ্পা মুখার্জী বলছি বরানগর থেকে
পু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু পুপু ...


উপস্থাপিকা - হ্যালো বাপ্পা বাবু আপনি আপনার টেলিফোনটি টিভি সেট থেকে দুরে রাখুন


সাধারণ মানুষ - হ্যালো দিদি আজ আমি খুব খুশী, সেই কবে থেকে আপনাকে নিয়ে তৈরী গান "বেলা বোস তুমি শুনতে কি পাচ্ছো?" আমার খুব প্রিয়
আর এখন আমি আপনার সাথে কথা বলছি আমি নিজেকে বিশ্বাসই করতে পারছি না


উপস্থাপিকা -  আচ্ছা বাপ্পাবাবু আপনি আমাদের জানান ঠিক এখন আপনার চারপাশে ভুমিকম্পে কি হচ্ছে?


সাধারণ মানুষ - হ্যা এখানে খুব খারাপ অবস্থা, বাড়ি ঘর ভেঙ্গে পড়ছে, রাস্তায় ফাটল ধরেছে, সবাই বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে...
এইমাত্র এইমাত্র আমার বউ এর ঘরটা ভেঙ্গে পড়ল


উপস্থাপিকা -  আপনি কোথায় আছেন?


সাধারণ মানুষ - আমি আমার ঘরে


উপস্থাপিকা - সেকি আপনার বউ আপনার ঘরে থাকে না?


সাধারণ মানুষ - না


উপস্থাপিকা - আপনার বউ এখন ঠিক আছেন?


সাধারণ মানুষ - হ্যা ওতো ঘর টা ভেঙ্গে পড়ার আগেই ওর পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে স্কুটারে করে বেরিয়ে গেছে
যাহ... আমার ঘরের একটা দেয়ালও ভেঙ্গে পড়ল


উপস্থাপিকা - আপনি এই ব্যাপারে আমাদের কি বলতে চান?


সাধারণ মানুষ - আমি প্রতিবাদ জানাতে চাই, বাংলায় এসব চলবে না , ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের বিধানসভায় আলাদা বিল পাস করা উচিত | আন্না হাজারেকেও এই ব্যাপারে  এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি | আমি আরোও বলতে চাই এই গম্বুজা সিমেন্ট কোম্পানি আমাকে ঠকিয়েছে ওরা টিভিতে সানি দেওয়ালকে দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয় "এ গম্বুজা কি দীবার হে টুটেগা নেহি" কিন্তু আমার ঘর তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ছে


উপস্থাপিকা - আপনি বলুন, আমরাই প্রথম  আপনার প্রতিবাদ সকলের কাছে পৌছে দিচ্ছি


সাধারণ মানুষ -  আমার আরো একটা দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ছে, একি একি এটা তো আমার গায়ের উপর ভেঙ্গে পড়ছে
হ্যালো... হ্যালো...


উপস্থাপিকা - হ্যালো আপনি শুনতে পাচ্ছেন?


সাধারণ মানুষ -  হ্যালো আমি চাপা পড়লাম
পু পু ... পু পু ...পু পু ... পু পু ...পু পু ... পু পু ...


উপস্থাপিকা - খুবই দুক্ষের সাথে জানাচ্ছি বাপ্পাবাবু ভুমিকম্পে দেওয়াল চাপা পড়ে আর আমাদের মধ্যে নেই, ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি


আমরাই সর্বপ্রথম আপনাদের কাছে দেখালাম কিভাবে বাপ্পাবাবুর এই ভুমিকম্পে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হলো, আমাদের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের চিঠি দিয়ে জানান