Tuesday, June 25, 2013

বৃত্ত ও সীমাবদ্ধতা -

সহজ করে কিছু আঁকতে গেলে প্রথমে একটা বৃত্ত এঁকে ফেলো -
ফাঁকা, নিঃসঙ্গ বৃত্তের মাঝখানে তুমি,
একান্তই তুমি, নিজের তুমি -

এবং তুমি,

বৃত্তের চারপাশে ছড়িয়ে থাক তোমার প্রিয়জনেরা,
কিছুটা রঙিন, কিছুটা সাদাকালো
কিছু থাক কুয়াশাঢাকা,
কিছু মুখ জমকালো -

এবার একটা একটা করে তোমার, তোমার খুব কাছের প্রিয় মুখগুলোকে বৃত্তের মধ্যে হাজির করো -
সহজ করে এঁকে ফেলো তাদের জীবনকে,
যেমন করে এঁকেছিলে নিজেকে  ...
দেখবে বৃত্তটা ভরে উঠছে - ভিড় জমছে,
মুখের ভিড়, রঙের ভিড়
ছায়ার ভিড় -

আলো-ছায়ায় ঘেরা তবু কিছু মুখ, কিছু প্রিয়জন বৃত্তের বাইরে পড়ে থাকে অগোছালো -
এইভাবে আঁকতে আঁকতে বুঝতে শিখবে বৃত্তের সীমাবদ্ধতা,
ছবির সীমাবদ্ধতা, জীবনের সীমাবদ্ধতা -
প্রিয়জনদের জীবনের বৃত্তে আটকে রাখার সীমাবদ্ধতা ...

আমার মা :)



আজ মাদার'স ডে -
আমি আমার মা কে নিয়ে ঠিক কি বলি?
আমি মা কে কোনদিন গলা জড়িয়ে আদর করিনি, ওসব আমার আসে না -
আর সত্যি বলতে কি আমার মা ওসব বোঝেও না -
সেই কোন ছোটবেলায় দেখতাম ভোরবেলায় মা নিমপাতা ঝরে পড়া উঠোন ঝাট দিতো , বারোয়ারী কল থেকে জল ভরে আনতো, বাসন মাজতো, আজ বুঝি মা রা কত ভালো হয়, আর আমি মায়ের পিছন পিছন ঘুরতাম, মায়ের শাড়ির আঁচলের একটা অংশ মুখে নিয়ে চিবতাম । দুপুরবেলায় মা যখন শুয়ে থাকত আর পান খেত মুখের ভিতর থেকে চিবোনো পানের একটু আমার মুখে পুরে দিতো,
আমি খুব যত্ন করে খেতাম ...
মায়ের বুকে মাথা গুঁজে আমি গায়ের গন্ধ নিতাম,

"তেজপাতা গন্ধ"

আসলে আমার কাছে মা একটা ঘন সবুজ পুকুরের মতো ।
আশ্চর্যজনক ভাবে আমার মনে হয় পৃথিবীর প্রত্যেক মায়ের দেহে-শরীরে একটা আলাদা গন্ধ আছে,
হাজার হাজার সুগন্ধি ডিওড্রেন্ডের থেকেও হাজার হাজার গুন বেশি সুগন্ধি সেই গন্ধ,
আর একমাত্র সন্তানেরাই সেই আলাদা গন্ধ চিনে নিতে পারে আর এখানেই মায়ের বৈচিত্র -

আজও দেখি এই বয়সেও মা আমাদের জন্য কত পরিশ্রম করে তবু তার মুখের হাসি ফুরায় না, ক্লান্ত হয় না -
আমার মা খুব বেশি পড়াশোনা জানে না তবু সে আমার কাছে শিক্ষিত তার মাতৃত্বে,
এখনো দেখি আমরা বাড়ি ফিরতে দেরী করলে, ফোন না করলে ছটফট করে,
নিজে ফোন করতে ভালো পারে না তাই অন্য কে দিয়ে ফোন করিয়ে কথা বলে -
এখনও রবিবার দুপুর বেলায় চিত্কার করে বলে " কিরে তাড়াতাড়ি স্নান করে খেয়ে আমায় উদ্ধার কর - অনেক কাজ পরে আছে আর জ্বালাস না "

একবার ২ বছর আগে এরকমই এক
মাদার'স ডে তে আমি আর ভাইঝি মিলে সেলিব্রেশন করব বলে মাকে একটা আইসক্রীম এনে দিলাম ( মা আইসক্রীম খেতে ভালবাসে) আর মাকে উইস করলাম মা, " হ্যাপ্পি মাদার'স ডে " -
মা কিছু না বুঝে অবাক হয়ে বলল সেটা কি? আমি বললাম আজ মায়ের দিন মাকে ভালবাসতে হয় -
মা বললো - " থাক আর আদিখ্যেতা করতে হবে না " এই বলে আইসক্রীমটা একটু একটু করে আমি, ভাইঝি, ভাইপোদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে নিজে একটুখানি খেলো আর আমাদের মাথায়-গালে হাত বুলিয়ে দিলো ...

এটাই আমার মা, মা কে কোনদিন গ্রিটিংস কার্ড
দিয়ে জানাতে হয়নি মা আমি তোমায় কত ভালবাসি - মা ও সে কথা বলেনি  - আসলে মা দের ভালবাসা যাচাই করতে হয়না, বলতেও হয়না -

কিছু ভালবাসা গাছভরা বকুলফুলের মত হাওয়ায় 
হাওয়ায় ঝরে পড়ে ...

এ কবিতার কোনো নাম নাই - ঘুমের মধ্যি লেখা কিনা ...


আঁধখানা চাঁদ হাসে
জংধরা আলো,
মেঘেদের গা ঘেষে
রাত নামে কালো,
ঘুম ঘুম ঘরে-
ভাসে, স্বপ্নের তরী
আগামীর ভোরে
যেন রুপকথা গড়ি ...

গরমকালে বাচ্চাদের ন্যাড়া করবেন না প্লিজ

রোজ সকালে আপিসের বাস ধরবার জন্যি যখন রাস্তায় দাড়িয়ে থাকি ঠিক তখন একটা স্কুল বাস ( নিবেদিতা স্কুল মনে হয় ) নিয়ম করে দুটো ফুটফুটে মেয়েকে আমার পাশ থেকে তুলে নিয়ে যায়, ওরা ওদের মা / কখনো কখনো বাবার হাত ধরে এত্তো বড়ো একটা বস্তা নিয়ে দাড়িয়ে থাকে আর মাঝে মাঝে আমার দিকে টালুস টুলুস করে তাকায় ( মনে হয় হতভম্ব হয়ে ভাবে এটা আবার কোন জীবজন্তু )
যাইহোক আজ সকালে দেখলাম ওদের একজন ন্যাড়া মুন্ডি ( মাথার সেই লাল ফিতে বাঁধা ঝুঁটিটা আর নেই ) খুব রাগ হলো ওদের বাবা মায়ের উপর, বাবা মা গুলোর কি " কমন সেন্স " বলেও কিচ্ছুটি নাই? বিজ্ঞান বলে এই তীব্র গরমে শিশু / বাচ্চাদের মাথা ন্যাড়া করতে নেই, এতে ওদের চুলহীন টাকে রোদ ও গরমে কষ্ট বাড়ে । প্লিজ চুল ছোট করে কেটে দিন কিন্তু এই গরমে বাচ্চাদের মাথা একদম ন্যাড়া করবেন না যেটা বাবা - মা দের বড্ড বদ-অভ্যাস ( অন্তত যারা স্কুলে পরে, রাস্তাঘাটে বেরহয় সেই সকল বাচ্চাদের )
নিজেরা ন্যাড়া হয়ে এই রোদে দাড়িয়ে থাকলে কেমন কষ্ট হয় একবার বুঝুন তো দেখি?

সার্থক বোকা সাজা :)


বোকা সাজার মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে
আর সেই আনন্দটুকুর জন্যে বোকা সাজা মন্দ কি?
অফিস থেকে বিকেলে বাড়ি ফেরার বাস ধরব বোলে চিত্পুর রোড দিয়ে হাঁটছি,
দেখি রাস্তার ধারে একটা পেট্রল পাম্পের খোলা জায়গায় বেশ কিছু কচি-কাঁচা ছেলে মেয়ে হই হুল্লোর করছে -
" বিকেলের খেলা "
কতই বা বয়স হবে ওদের এই বড়জোর পাঁচ ছয় ...
ওরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথ চলতি মানুষদের ডেকে বলছে " ভাইয়া আপকে মাথে পর কাউয়া নে টাট্টি কিয়া হে "
কেউ ওদের দিকে তাকাচ্ছে কেউ নিজের তাড়ায় হেঁটে চলে যাচ্ছে ...
যথারীতি আমাকে উদ্দেশ্য করেও ওরা বললো -
" ভাইয়া আপকে মাথে পর কাউয়া নে টাট্টি কিয়া হে "
আমিও একটু থমকে ভ্যাবাচ্যাকা মেরে ওদের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত রাখলাম,
আর সঙ্গে সঙ্গে ওদের মুখে হাসি ফুটে উঠলো
আমাকে বোকা বানাতে পারার খুশীতে ছেলে মেয়ে গুলো খিলখিল করে হেসে হই হই করে নেঁচে উঠলো
সেই আনন্দ দেখার মতো ...
আমিও বোকা বোকা মুখ করে পথ চলতে লাগলাম :)
সার্থক বোকা সাজা ...
সত্যি কখনো কখনো  বোকা সাজার মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ লুকিয়ে থাকে ...

... " রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও গো এবার যাবার আগে "


" বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে এ আবার কিসের বসন্ত? " সেই কবে মৃত্যুর আগে কোনো এক তরুণ কবি এ কথা বলে গেলেও আজও বসন্ত তার আপন নিয়মেই ডালিভরে রূপ-রস-গন্ধ বিলি করতে আসে এই শহরের অলিতে-গলিতে । ধুলোমাখা ফুটপাথে লাল-হলুদ পাতারা যখন নিঃশব্দে হাওয়ায় ঝরে পড়ে, তখন আকাশের দিকে আলো ছড়িয়ে দেয় পলাশ-শিমুলের সূর্য । গাছের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা কোকিলের ডাক, সকালের পাতিলেবু রঙের গুঁড়ো গুঁড়ো মিহি রোদ আর বুনো টিয়ার সবুজ পাখায় জেগে ওঠে ঋতুরাজ । আসমানী বিকেলগুলো আসতে আসতে গোলাপী হয়ে ওঠে, যা আমার মতো হাড়িচাঁচার মনকেও বুঝিয়ে দেয় যে অবশেষে এই দেশলাই বাক্সের শহরে হাজির - " আনন্দ-বসন্ত-সমাগমে"

ঠিক এই সময় বিকেল শেষে একটা অদ্ভুত হাওয়া দেয়, মা বলে এই হাওয়া গায়ে লাগাতে নেই, মায়ের কথার অন্তর্নিহিত মানে খুজতে বসিনি কোনদিনই শুধু বুঝি মায়ের বয়সী মানুষেরা কতো কিছু জানে, তারা জানে শুধু নিছক একটা হাওয়া মানুষকে খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে দিতে পারে । তবু ছোটবেলায় মন কেমন করা সেই হাওয়ার মাঝে যখন পড়তে বসতাম তখন বিকেল শেষ হয়ে আসতো । সামনের বইয়ের পাতায় সমুদ্রগুপ্ত কে খুলে রেখে জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম দুরে বাবলিদের উঁচু বাড়ির চৌকোনো চিলেকোঠাটার দিকে । আলো ছুটি যাওয়া বিকেল শেষে সেই ছাদে এসে বসতো ঘরে ফেরা কাকের দল, আর কখন যেন মানুষের গন্ডি ছেড়ে আমার অপরিণত মন, জায়গা করে নিতো কাকেদের ভিড়ে ।

অবিস্যি বসন্তের কাকেরা বড্ড চঞ্চল, রোজ সকালে দাঁত মাজার সময় খেয়াল করি আমার বাড়ির ছাদ লাগোয়া রাশি রাশি মঞ্জরীতে ভরা আমগাছটায় বাসা বেঁধেছে এই সদাচঞ্চল কাকেরা । সামনের রাজুদাদের শ্যাওলা মাখা কুয়োতলার কোনায় রাখা ঝাঁটা থেকে ঠোঁটে করে একটা একটা করে কাঠি খুলে নিয়ে এসে জড়ো করছে সেই বাসায় । তাছাড়া কদিন ধরেই দেখছি আমাদের চিলেকোঠার ঠাকুর ঘরে মা কালির ফটোটার পিছনে আবার সংসার পেতেছে চেনা চড়াই দুটো, রোববারের দুপুরে ওদের বাসা বোনা দেখি, কোত্থেকে সারা রাজ্যের শুখনো ঘাস-পাতা জড়ো করে এনেছে ফটোর পিছনটায় । দুজনে ঠোঁটে ঠোঁট ঘসে খুনসুটি করে, যেন " এ তেরা ঘর এ মেরা ঘর " ছবির শুটিং চলছে । আর ওই হাসিন ঘরেই এই বসন্তে ওরা আবার উপহার দেবে ছোট্ট দুটি ছানা, তাদের কিচিরমিচির শব্দে ভরে উঠবে এই ঘর-সংসার । তারপর একদিন বাসা ফেলে, শুখনো খড়-কুটো ফেলে, ফটোর পিছনের অন্ধকারকে দুরে সরিয়ে উড়ে যাবে আকাশের নীলিমায় । এ যেন কবির কথাই সত্যি করে তোলে বারবার - " রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও গো এবার যাবার আগে "

হবে নাই বা কেন? বসন্ত যে রঙের উত্সব, সারা বছরের ধুসর-ধুলোমাখা দিনগুলোকে রাঙিয়ে দিয়ে যাবার উত্সব, দোল উত্সব । কোনো রঙ আমার এই প্রাগৈতিহাসিক শরীরটাকে কোনদিন রাঙিয়ে তুলতে না পারলেও এই বিবর্ণ দেহের আনাচে-কানাচে রঙ খেলার কিছু মিষ্টি অনুভুতি আজও জীবাশ্ম হয়ে বেঁচে আছে । মনে আছে ছোটবেলায় আমরা যেই বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তার চারপাশে অনেক ছোট ছোট ঘর ছিল আর সেই ছোট ছোট ঘরের বড় বড় দাদা-দিদিরা মিলে বাড়ির মাঝখানের ছোট্ট চারকোনা উঠোনটায় দোলের আগেরদিন রাতে নেড়াপোড়া করত । প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উঠোনে জড়ো  করা শুখনো নারকোলের পাতা ও ডালপালা দিয়ে তৈরী বুড়ির ঘর যখন জ্বলে উঠতো তার পলাশ-শিমুল আগুনে-রঙ রাঙিয়ে দিতো আমাদের রাতের আকাশ । সেই ফাগুনের অদম্য আলোয় বারান্দার এক কোনে দাড়িয়ে থাকতাম আমি, উদ্যাম আগুনের নৃত্যে আর বড়দের হই-হুল্লোরে আমিও নেঁচে উঠতাম, মাঝে মাঝেই দৌড়ে যেতে চাইতাম উঠোনের মাঝখানটায় । কিন্তু মা, দাদারা কেউ না কেউ পরনের স্যান্ডো গেঞ্জিটা অথবা প্যান্টটা টেনে ঠিক আটকে দিতো সন্ধ্যের সেই আক্ষেপ মিটে যেত একটু রাত বাড়লেই, যখন দাদা কারখানা থেকে বাড়ি ফিরত আমার জন্য একটা পেলাস্টিকের পিচকারী আর একটা বেলুনের প্যাকেট কিনে নিয়ে । ওই বেলুনগুলোতে আমি রঙ-জল ভরে ছুড়তাম না, ওগুলো রাতে দাদা একটা একটা করে ফুলিয়ে দিতো আর আমি খাটের কোনায়, জানলার পাল্লায়, দাদার সাইকেলে, অথবা গামছা মেলার দড়িতে ঝুলিয়ে রাখতাম ।  পরদিন সকালে দাদা একটা বালতির জলে জামা কাপড় কাচার নীল রঙ গুলে দিতো, আমি সেই বালতি থেকে পিচকারীতে রঙজল ভরে দুয়োরের সামনের পেঁপে গাছটার গোড়ায় ছুড়তাম । কাকভোরে আমার রঙ খেলার সাথী বলতে ছিল এই পেঁপে গাছটা আর আমার মা । মা নিমপাতা ঝরে পড়া উঠোন ঝাট দিতে দিতে, বারোয়ারী কল থেকে জল ভরে আনতে আনতে, বাসন মাজতে মাজতে যখনই আমার কাছে এসে দাড়াত আমি পিচকারী দিয়ে মায়ের সারা গা রঙ জলে ভিজিয়ে দিতাম । আজ বুঝি মা'রা কত ভালো হয়, ওই ভেজা শরীরেও কাজ করতে করতে মা আমাকে খেলার সময়টুকু দিতো, কখনো বিরক্ত হত না । আসলে মা'রা তো পুকুরের মতো, রঙ খেলার পর দামাল ছেলেরা যেমন পুকুরের সবুজ ঘন জলে এসে ঝাঁপ মারে তখন তাদের সারা দেহের লাল, হলুদ, সবুজ রঙগুলো পুকুরের জলে মিলে  মিশে একাকার  হয়ে যায় । আমার মা ও তেমনি আমার সমস্ত রঙিন স্বপ্নগুলোকে নিজের গায়ে এঁকে বহন করে চলত । একটু বেলা বাড়লেই আসেপাশের ছোট ছোট ঘরগুলো থেকে বেরিয়ে আসত রাখিদি, দীপাদি, বন্যাদির দল, তারা বড়দের রংখেলায় মেতে উঠতো । মাঝে মাঝে দৌড়ে এসে আমার লাল টুকটুক ফর্সা গালেও রং মাখিয়ে যেত । সেই রঙ সময়ের ইতিহাসে জীবাশ্ম হয়ে গেলেও তার গোলাপী আভা আমি আজও অনুভব করি । স্নান সেরে মা যখন পুজোয় বসত ঠোঙ্গা থেকে বার করে গোলাপী, হলুদ আর সাদা রঙের হাতি, ঘোড়া পুতুলের চিনির মঠ থালায় রাখতো ঠাকুরের সামনে । তবে পুজোর আগেই মা একখানা মঠ আমার হাতে গুঁজে দিতো আর আমিও মহা আনন্দে চুপ করে বসে থাকতাম । আমরা বামুন পরিবার তাই দোল পূর্নিমার বিকেল শেষে দেখতাম মায়ের থেকে যারা বয়সে ছোটো তারা আসতো  মাকে আবির মাখিয়ে প্রনাম করতে । মা তাদের হাতে মঠ- ফুটকড়াই খেতে দিতো আর প্রতিবার আমিও কিছু ভাগ পেতাম । ছোটবেলার দোল উত্সবের দিনগুলোর সেই সুন্দর স্মৃতি আজও মনে গেঁথে আছে ।

এখন রঙের উত্সবে আমার অফিস ছুটি থাকে, উঁচু বাড়ির ঝুল বারান্দায় দাড়িয়ে সারাদিন পাড়ার কচি-কাঁচা ছেলে মেয়ে দের হই-হুল্লোর দেখি তবে নিজেকে আর রাঙিয়ে তোলার চাহিদা অনুভব করি না । থেমে থাকা ছিন্ন ভিন্ন হাসির মতো পুরোনো সেই দেয়ালের ছাপ ছাপ রঙ, চৌকোনো উঠোন, দাদার সাইকেল, গোলাপী গাল, পিতলের থালায় রঙিন মঠ, মায়ের ভেজা শরীর জেগে আছে আমার চারপাশে । এটাই আমার জগৎ আমার জীবন । তবে আমি মনে করি প্রত্যেক মানুষকে জীবনে একবার রঙ খেলা উচিত, একমাত্র বসন্তের রঙই মানুষের বিবর্ণ জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে পারে । পৃথিবীর কাউকে কোনদিন যেন সেই সার্থপর দৈত্যটার মতো আফসোস না করতে হয় - " How selfish I have been, now I know why the spring would not come here " । তাই প্রত্যেক মানুষের মনের বাগানে বসন্ত জাগ্রত হোক, বসন্তের আকাশে আকাশে চন্দনের গন্ধ ভাসুক , গাছভরা বকুল ফুল ঝরে পড়ুক …

বত্সর শেষে লাল-হলুদ ফুল বিছানো পথে পরিশ্রান্ত পথিক যে ছায়াপথ এঁকে যায় আগামীর সূর্য সেই পথেই নতুন আলো ঝরায়, সেই পথেই পাখি গান গায়, আকাশী-নীল ছেলেদের সাথে গোলাপী-হলুদ মেয়েরা পথে নামে, আবার ভালবাসা উপচে পড়ে । আর এই ভালবাসার বসন্তের জন্য, এই সত্যিকারের রঙের জন্য মানুষের অপেক্ষা থাকে চিরকাল, কোনো এক অসম্পূর্ণ চাঁদের ভাঙ্গা বৃত্তের মতো ...

" চিং চাং "


এবার আমার একটা কবিতা বলি কেমন?
নমস্কার ~
স্বনামধন্য, রাজা-মহারাজাধিরাজ, বিক্রমাদিত্য, শ্রী তর্কলন্কার, তর্করত্ন মহাকবি বাপ্পানন্দ মহারাজের একখানি অস্কার পাওয়া কাব্যগ্রন্থ " চিং চাং " থেকে এক টুকরো কবিতা বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষে এখানে আপলোড করা হলো ...

চালতা গাছে আলতা পায়ে
কাঠবেড়ালির মেয়ে
পা দুলিয়ে লেজ ঝুলিয়ে
উঠলো ভজন গেয়ে
ভজন শুনে কোলা ব্যাঙ
সাগরে দিলো পাড়ি
কাঠবেড়ালি উড়ে গেলো
রামধনুদের বাড়ি
জলের তলায় তারাগুলো
জ্বাললো তখন বাঁতি
নীল আকাশে মেঘের ভেলায়
পাখনা মেলে হাঁতি
হুতুম প্যাঁচা ঘুড়ি উড়োয়
রোদ চশমা পরে
গাইছে গাধা গজল গান
কীর্তনের সুরে
গল্পে গরু গাছে ওঠে
এটা সবার জানা
ভাবতে তবে ক্ষতি কি?
আমি বিশ্বকবির ছানা ...